May 16, 2021, 11:50 am

শিরোনাম
পিরোজপুরে অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে “ফ্রেন্ডস’ ৯৭ পিরোজপুর” লকডাউন বাড়ছে ১৬ মে পর্যন্ত, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। প্রবাসী আয়ে ঢল, রিজার্ভ বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার,এপ্রিলে ২০৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা । মে মাসের প্রথম দুই দিনে এসেছে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। যত টাকা লাগুক, প্রয়োজনীয় করোনার টিকা আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুর জেলা সেভ দ্যা ফিউচার ফাউন্ডেশনের পবিত্র রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ। পিরোজপুর HDTএর সৌজন্যে সেলাই মেশিন বিতরণ। লকডাউনে পিরোজপুর শহরে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ! করোনাকালে অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিলেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগ। একসঙ্গে কাজ করবে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জার মেয়ের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র মুলক মামলা দায়ের করলো “মা”।

পুরুষত্বের ইগোর কারণেই স্ত্রীর সফলতাতে ঈর্ষান্বিত হয় স্বামী

কর্পোরেট জগতে চাকরি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখানে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ যত বেশি ঠিক তত বেশি সময়, মেধা শ্রম দিতে হয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। যা ব্যক্তিজীবন থেকে বলতে গেলে সবটুকু সময় নিয়ে যায়। আর প্রতিযোগিতার এ যুগে নিজেকে টিকে থাকতে হলে অফিসকে প্রাধান্য দেয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।

অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে নিশ্চিত জীবন বেতন ভাতা পেনশন নিয়ে। কর্পোরেটে এ নিশ্চিতা নাই। তবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে বেশ ভালো ভাবেই জীবন চলে কর্পোরেট জগতে।

এ ভালো ভাবেই চলার জন্য সোনিয়াকে অনেকটা সময় দিতে হয় তার অফিসে। বেশ বড় এক কোম্পানির মার্কেটিং চিফ হিসেবে কাজ করছে সে। স্বামী রাতুল সরকারি কর্মকর্তা। ছেলে স্কুলপড়ুয়া। সবকিছু এমনইতে ঠিকঠাক চলছে তাদের। কিন্তু রাতুল সোনিয়ার চাকরির সাফল্যতাতে কেমন জানি ম্রিয়মাণ থাকে। বিশেষ করে সংসারের আর্থিক বিষয়ে সোনিয়ার কেনাকাটাকে তার কাছে বিলাসিতা মনে হয়। প্রায়ই সে অভিযোগ করে সোনিয়া দামী খেলনা বা ছেলের আবদার মিটিয়ে তাকে নষ্ট করছে।

রাতুলকে সোনিয়া অনেকবার বুঝিয়েছে তাদের কাজের জগৎটা দিয়ে সংসার জীবনে জটিলতা করা ভুল। কিন্তু রাতুল সোনিয়ার উর্পাজন, পজিশন, স্বাবলম্বী থাকাটা মেনে নিতে পারছে না। অনেকবার সোনিয়াকে চাকরি ছাড়ার কথা বলেছে। দিন দিন রাতুল অন্য এক মানুষ হয়ে উঠে। সামান্য অজুহাতে ঝগড়া হয় তাদের। ছেলেটা বাবা মায়ের এ অশান্তি দেখে ভীতু হয়ে যায়। সোনিয়া আর না পেরে বাবার বাড়ি চলে আসে। তবে মানসিক যন্ত্রণাতে বিপর্যস্ত সে।

সোনিয়ার মত এমন সমস্যা চাকরিজীবী অনেক নারীর জীবনে এখন নিত্যকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর কাজের ক্ষেত্রে পজিশনগত বৈষম্যতা পারিবারিক অশান্তির হেতু হয়। যার অন্তরালের কারণ হলো, পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের অবদমন করার প্রবনতা এখনো বিদ্যমান। এমন ও দেখা যায় একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে বিয়ে করার ক্ষেত্রে তার স্ত্রী শিক্ষিত হোক এটা চায়। তবে স্ত্রীকে চাকরি করতে দিবে না। শিক্ষিত স্ত্রী দরকার নিজের স্ট্যাটাস, পরিবার ও সন্তানের সঠিক দেখভালের জন্য কেবল। স্ত্রী  চাকরি করাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখা না এবং প্রয়োজন ও মনে করে না।

একজন নারী অফিস পরিচালনাতে নিজের সিদ্ধান্ত, মতামত দিলে তা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু পরিবারে তার সে অধিকার ও স্বাধীনতা তেমনভাবে নাই। আর এক্ষেত্রে স্বাবলম্বী স্বচ্ছল নারীর চলাফেরা স্বামী মুখাপেক্ষী স্ত্রীর মত হয় না স্বাভাবিকভাবে। এটা স্বামীর আত্মসম্মানে বাধে তিনি পুরুষ বলে। কিন্তু আধুনিককালে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মানসিক সংকটকে জটিল করছে বলে পরকীয়া, বিচ্ছেদসহ নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

‘মানিয়ে নাও’ – এ শব্দটি  নারীকে খুব সহজে বলা যায়। দরকার হলে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা আসে নারী বেলাতে। কিন্তু একজন পুরুষের ক্ষেত্রে একথাগুলো কল্পনাতীত। তাই প্রতিষ্ঠিত নারী এ কথাটার অন্তরালে অনেকটা লড়াই থাকে এ সমাজ ব্যবস্থায়। কারণ লিঙ্গ বৈষম্যতা, ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি-নীতি নারীকে যে শিকল পরিয়ে রেখেছে তা পুরুষের অহংবোধের বহিঃপ্রকাশ।

একজন নারীর আয় পুরুষের তুলনায় বেশি হলে পরিবারের পুরুষ হীনমন্যতার সাথে সাথে অনিরাপত্তায় ভুগে। একই সাথে তার চিন্তায় সন্দেহপ্রবণতা দেখা দেয়। যার ফলশ্রুতিতে অফিসের কাজে অধিক সময় ব্যয় নিয়ে উঠে নানা প্রশ্ন।

স্বামীর রোজগারে সংসার চলে আর স্ত্রী সন্তান মানুষ করবে – এটা ভারতীয় অঞ্চলের চিন্তাধারা। এ মনোভাবের ব্যতয় হলে তা মানা কষ্টকর বলে মনে করেন ভারতের মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শক শ্বেতা সিং।

এ বিষয়ে লন্ডনের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সার্বিক বাজেটে স্ত্রীর ৪০% আয়কে স্বামী সাবলীলভাবে নেয়। কিন্তু এর বেশি বা গৃহকর্তা হিসেবে পুরুষের আয়ের চেয়ে নারীর আয় বেশি হলে তা মানিয়ে নিতে পারে না। বরং এটা কেন মানসিক যন্ত্রণার কাণে হয় তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে না।

তবে গবেষকরা আমেরিকার ৬ হাজার নারী পুরুষের উপর জরিপ পরিচালনা করে বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবকাঠামোর কারণেই এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা দেখা দেয়। পুরুষের হাতে পরিবারের আর্থিক আধিপত্য থাকবে এ চিন্তা সাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয়।

নারী স্বাধীনতা, লিঙ্গ সমতার কথা যতই বলা হোক না কেন, নারীর অগ্রগামিতা পরিবার সমাজে এখনো কন্টকময়। তাই স্ত্রীর কর্মক্ষেত্রের সফলতা স্বামী জন্য ঈর্ষা কারণ হয় পুরুষত্বের ইগো প্রবল বলে।

লেখক: হাসিনা আকতার নিগার

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares