October 15, 2021, 9:13 pm

শিরোনাম
চাকরিজীবীরা একে অপরকে বিয়ে করতে পারবে না,সাংসদ বাবলুর প্রস্তাব বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবীদের দোয়া ও তাবারক বিতরণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬- তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠান। পিরোজপুর সদর উপজেলা জেলা সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা শোকের মাসে সৌদি প্রবাসীদের দূতাবাসের বিশেষ সেবা প্রদান করা হবে- রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ থেকে, সামাজিক সংগঠন এমিনেন্ট বয়েজ কে কাভিট ইকুপমেন্ট প্রদান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের জন্য ঘুষ না দেওয়ায় মারপিট! ইন্দুরকানীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের -২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত! ছাত্রদল নেতা সিরাজ এখনো বয়ে বেড়ান তার সেই ভয়াবহ গুলির স্মৃতি পিরোজপুর সদরে ভূইফোঁড় সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতার ছড়াছড়ি।

পিরোজপুরে মাস্ক ব্যবহারে অনুৎসাহী মানুষজন ॥ মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

মোঃ নুর উদ্দিন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে বাড়ী শ্রমজীবী আ. রশিদের। প্রতিদিন তিনি তার রিক্সাখানা নিয়ে আসেন পিরোজপুর শহরে। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয়। তা নিয়ে ফিরে যান বাড়ীতে। একদিন রশিদের রিক্সায় চড়তে দিয়ে কথা হয় তার (রশিদের) সাথে। রশিদের কাছে জানতে চাই করোনা সংক্রমণ চলছে, মাক্স ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে। প্রচারণাও চালানো হয়েছে মাক্স ব্যবহারের জন্য। না মানলে জরিমানার বিধানও আছে। কেন ব্যবহার করছেন না মাক্স ? এমন প্রশ্নে- কথা ঘুরিয়ে আ. রশিদ বললেন, ৯০ ভাগ লোক মাক্স ব্যবহার করেনা।

আ. রশিদ বলেন, “মোরা যেমন তেমন অনেক ভদ্দর লোকরা মাক্স ব্যবহার করেনা।” আ. রশিদের রিক্সায় শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মিললো তার ভাষ্যের সত্যতাও। মনে হলো করোনা চলে গেছে। হাটে-বাজারে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, সভা-সমাবেশে সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ। অনেকেই ব্যবহার করছেন না মাক্স।
গত রবিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে গেলে দেখা যায় রোগীদের উপচেপড়া ভীড়। কোন রকম সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। দু’চার জনের মুখে মাক্স দেখা গেল। প্রতি ডাক্তারের কক্ষের সামনে লোকজনের ঠাসাঠাসি। চিকিৎসা নিতে আসা নান্টু নামে একজন জানান, করোনার শুরুর প্রথম দিকে ডাক্তাররা দূর থেকে রোগী দেখতেন, এখন প্রায় আগের মত (করোনার আগে যে রকম রোগী দেখতেন) রোগী দেখছেন তারা।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. তৈয়ব আলী হাওলাদার জানান, ৫ হাজার ২৬৭ জনের নমুনা বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ৫ হাজার ২৬০ জনের নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা পজেটিভ ১ হাজার ৯৪ জন। সুস্থ ১ হাজার জন। অন্যরা হোম আইসোলেশন আছেন। মারা গেছেন ২৪ জন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মঞ্জুয়ারা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকা ২১৯ জনের মধ্যে ২১৮ জন সুস্থ হয়েছেন। গেল ২২ সেপ্টেম্বর ভান্ডারিয়ার একজন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহম্মাদ আল মুজাহিদ জানান, মাক্স পড়ার বিষয়ে মানুষ সচেতন না। মাক্স না পড়ার কারণে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম জানান, মানুষের মধ্য থেকে করোনা ভীতি কমে গেছে এ কারণে মানুষ মাক্স ব্যবহারে অনুৎসাহী।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়, পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার মাক্স বিতরণ করা হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, মানুষ সচেতন খুবই কম। আগে জরিমানা করা হয়েছে। এখন সচেতনামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাক্স, স্যানিটাইজার ও সাবান কেনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এ টাকা দিয়ে খুব শীগ্রই মালামাল কেনা হবে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, করোনা পরিস্থিতি অনেকদিন বিরাজ করার কারণে মানুষের মধ্যে সহনীয় প্রভাব চলে এসেছে। যে কারণে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, শিক্ষিত সচেতন মহলের সাথে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে তারা করোনার সেকেন্ড ওয়েভ ফিল করছেন। গত ১১ অক্টোবর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাক্স না পরার কারণে এর আগে আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট করতাম। সেকেন্ড ওয়েভকে সামনে আমরা এ বিষয়ে নতুন করে আইন প্রয়োগ করা শুরু করবো। অনেক সময় সভামঞ্চে থাকা অতিথিদের মধ্যে অনেককে মাক্স পড়তে দেখা যায়না এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষিত সচেতনদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নিজাম উদ্দিন জানান, বহি:বিভাগে, জরুরী বিভাগে, অন্ত:বিভাগে রোগীর চাপ অনেক বেশী। জনবল সংকটতো আছে তার পরেও আমরা সাধ্যমত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সব ধরনের রোগী আসছে। করোনা পূর্ব যে রকম রোগী আসতো বর্তমানেও সেরকম রোগী আসছে। তিনি বলেন, রোগীদের ও দর্শনার্থীদেরকে মাক্স ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন হাসনাত ইউসুফ জাকী জানান, এখন করোনার প্রভাব কম। আগের চেয়ে স্যাম্পল কম। সিমটম ছাড়া তো স্যাম্পল হয়না। মানুষের মধ্যে ধারণা হয়েছে করোনা চলে যাচ্ছে। এ কারণে মানুষ মাক্স ব্যবহার করছে না। এরপর তিনি বলেন, ডাক্তার নার্সদের ব্যাবহারের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, জেলা হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা হাসপাতালগুলোর জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাওয়া গেছে। পিরোজপুর জেলা পরিষদ থেকে এগুলো দিয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন না থাকার কারণে এগুলো ব্যাবহার উপযোগী করা যাচ্ছেনা। পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়ায় ৪টি হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা লাগানোর জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরী করেছে। দরপত্রের প্রক্রিয়াদি শেষ করে তারা সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন করে দিবে। তখন এগুলো ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, মাক্স পড়লে সেকেন্ড ওয়েভ ঠেকানো যাবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares