March 6, 2021, 5:13 am

শিরোনাম
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরাক প্রবাসী খোলা চিঠি। টাকার মেশিন এমপি নূর মোহাম্মদের বিকাশ নাম্বার, অজ্ঞাত উৎস থেকে প্রতিদিন ঢুকছে টাকা! বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কর্মী নেবে সিঙ্গাপুর ও রোমানিয়া কৌশলে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিচ্ছেন ৪০ বছরের কম বয়সীরাও! বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে,আবাসিক হল ১৭ মে: শিক্ষামন্ত্রী পিরোজপুরে স্কুল শিক্ষিকার বাসা থেকে গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। “বকুলতলা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অমর একুশের ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ” ভাষা শহীদদের জন্য বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত বাগেরহাটে গাছে আমের মুকুলে ভরপুর স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। সেভ দ্যা ফিউচার ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ দিনের রিমান্ডে রায়হান কবির, নিজ বক্তব্যে অটল

কোডিভ-১৯ মহামারি চলাকালে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি তরুণ রায়হান কবিরকে ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

আজ বৃহষ্পতিবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে ১৪ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফলে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত রায়হানকে রিমান্ডে থাকতে হবে।

রায়হানের আইনজীবী সুমিতা শান্তিনি কিষনা সকাল পৌনে ১০টায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বুধবার রাতেই আমরা জানতে পারি রায়হানকে আজ আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ড চাইবে পুলিশ। সে অনুযায়ী আমরা আদালতে হাজির হই। তবে আদালতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।’

সুমিতা জানান, রায়হান আগের মতোই বলেছেন যে তিনি যা দেখেছেন তাই বলেছেন। তবে মালয়েশিয়ার কাউকে আহত করা তার উদ্দেশ্যে ছিল না। রায়হানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে বুধবার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দিজাইমি দাউদের সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়া গেজেট ও দ্য স্টার জানায়, রায়হানের বিষয়ে যে তদন্ত চলছে সেটা শেষ করে সব নথি অ্যাটর্নি জেনারেল চেম্বারে (এজিসি) জমা দেওয়া হয়েছে। এজিসি সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর রায়হানকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ফেরত পাঠানোর পর সে আর মালয়েশিয়া আসতে পারবে না। কারণ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এর ফলে রায়হান পরে আর কখনও মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন না বলেও জানান দাউদ।

কবে নাগাদ ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী ফ্লাইট যাবে ৩১ আগস্ট। সেই ফ্লাইটে তাকে পাঠানো হবে।’

তবে মালয়েশিয়ার একাধিক বাংলাদেশি জানিয়েছে, ৩১ আগস্টের আগে ঢাকায় কুয়ালালমপুরের একাধিক ফ্লাইট রয়েছে। কিন্তু, এরপরও তাকে দেরি করে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টা আদালতে তুলে ধরেছেন আইনজীবীরা।

গত ৩ জুলাই আল-জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি লকডাউন চলাকালে দেশটির সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে দেখানো হয়েছে, কর্মহীন ও খাবারের সংকটে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আল-জাজিরার ওই প্রামাণ্য প্রতিবেদনে মহামারি চলাকালে অভিবাসীদের আটক ও জেলে পাঠানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে বক্তব্য দেন রায়হান কবির। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশ তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে। ২৪ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান বলেছেন, কোভিড-১৯ চলাকালে প্রবাসীদের প্রতি যে আচরণ তিনি দেখেছেন সেটাই তিনি বলেছেন এবং এগুলো তার একান্তই নিজস্ব অনুভূতি। তবে তিনি মালয়েশিয়ার কাউকে তিনি আহত করতে চাননি।

গ্রেপ্তারের আগে রায়হান দ্য ডেইলি স্টারকে এক বার্তায় বলেন, ‘আমার অপরাধটা কী? আমি তো কোনো মিথ্যা বলিনি। প্রবাসীদের ওপর যে বৈষম্য ও নিপীড়ন চলেছে, আমি শুধু সেই কথাগুলো বলেছি। আমি চাই প্রবাসে থাকা কোটি বাংলাদেশি ভালো থাকুক। আমি চাই পুরো বাংলাদেশ আমার পাশে থাকুক।’

রায়হানের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। বাবা-মা আর দুই ভাই-বোনের পরিবার। স্থানীয়রা বলছেন, বন্দরে নিজ এলাকাতেও সবার কাছে প্রতিবাদী তরুণ হিসেবে পরিচিত রায়হান। এলাকার সবার বিপদে-আপদে পাশে থাকতেন। নিজের বই, টাকা দিয়ে সাহায্য করতেন শিক্ষার্থীদের। এলাকায় মাদক চোরাকারবারের বিরুদ্ধে দারুণ সোচ্চার ছিলেন তিনি।

গত ১ আগস্ট ঈদের দিন রায়হানের মা রাশিদা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার যন্ত্রণা আমি কাউকে বোঝাতে পারবো না। সারাটা দিন আমি কেঁদেছি। আমার ছেলেটাকে আপনারা আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমার আকুতি, আমার ছেলেটাকে ফেরত দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও আমার একই আকুতি। আমি নিশ্চিত জানি, আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি।’

শরিফুল হাসান, ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার

shariful06du@gmail.com

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares