September 18, 2020, 9:51 am

শিরোনাম
বাগেরহাট জেলার ২০২১ সালে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ছাড়াবে মোংলা বন্দর। মোঃ জহির উদ্দিন সাইক্লিং করে পিরোজপুর। পিরোজপুর পৌর যুবলীগের ৩নং ওয়ার্ড কার্যালয় পুড়িয়ে দিলেন সন্ত্রাসীরা। বিমানের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগেরহাটে গুরজিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় টাকা না দিলে মিলছে না প্রশংসাপত্র। ধর্ষণ শেষে হত্যার ৪৫ দিন পর সেই স্কুল ছাত্রী থানায় হাজির প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে বিয়ে অতঃপর যৌতুকের জন্য চাপ, যৌতুক না দেয়াতে তালাক। সাউথ আফ্রিকার,ডারবানে একটি মসজিদে আগুন মোংলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাথে একাত্নতা প্রকাশ উপজেলা চেয়ারম্যান হাওলাদার আবু তাহের। বাগেরহাট জেলার খাল থেকে ৪২ কেজি হরিনের মাংস, হরিন শিকারের ফাঁদ’সহ নৌকা জব্দ।

সাম্প্রদায়িকতা নয়, আমাদের পাথেয় হোক মানবতা-ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

আপনারা অনেকেই জানেন এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষে বরিশালে বাসদ এর উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার দরিদ্র নিম্নবিত্ত পরিবারে ঈদ আনন্দ পৌঁছে দিতে এক কেজি পোলাও এর চাল ও এক কেজি মাংসের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া হিন্দু ও খ্রিস্টান প্রায় ৪০০ পরিবারের জন্য মুরগির তেহারি রান্না করে বিতরণ করা হয়।
ঈদের আনন্দ যেন শুধু বড়লোকদের ঘরে বন্দী না থেকে দরিদ্র-নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছেও পৌঁছে যায় সেলক্ষ্যে বরাবরের মতো এবারেও আমরা এই আয়োজন করেছি। কারণ আমাদের দেশে সকল ধর্মীয় উৎসবেই আমরা সবাই এক সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হই। ঈদে হিন্দু, খৃষ্টানদের মুসলিম বন্ধু, প্রতিবেশিদের বাসায় দাওয়াত খাওয়া বা পুজো-বড়দিনেও হিন্দু-খৃষ্টান পরিবারে মুসলমানদের দাওয়াত খাওয়াটা খুবই সাধারণ বিষয়। মুসলিম বা হিন্দু মৌলবাদীরা এগুলোকে বিভিন্ন সময় ধর্মের পরিপন্থি বললেও তা কখনোই আমাদের দেশে হালে পানি পায়নি। গত রমজানের ঈদেও আমাদের দল বাসদ এর উদ্যোগে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর উপস্থিতিতে ৫ হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণকে কেন্দ্র করা হয়। যা সারাদেশেই সমাদৃত হয়।

গত চার মাস ধরে করোনা নিয়ে গণ মানুষকে সতর্ক করা, সরকারের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা, জনগণের বিভিন্ন অংশের সহায়তা নিয়েই জনগণের প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করছি। এতে সমাজের বিভিন্ন অংশের অকুণ্ঠ সমর্থন আমরা পেয়েছি। যা আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মনোবল বাড়িয়েছে, মানুষের প্রতি দায়বোধকে আরও উন্নত করেছে। জনগণের বিভিন্ন অংশে যোগাযোগ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি দরিদ্র মানুষের কাছে উৎসব কি পরিমাণ বেদনা নিয়ে আসে। একটু ভাল খাবার, পোশাক দিতে না পারার বেদনা কি গভীরভাবে বাবা মা’কে পীড়িত করে। তাই গত রমজানের ঈদে আমরা কিছু খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলাম করোনায় কর্মহীন ও সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য। অনেকে সহায়তা করেছিলেন সেই উদ্যোগে এবং পরামর্শ দিয়েছিলেন কোরবানি ইদেও যেন আমরা এরকম উদ্যোগ নেই। অনেক দরিদ্র পরিবারে মাংস কিনে খাবার সামর্থ্য নেই, তাদের পাশে যেন আমরা দাঁড়াই।

ফলে বাসদের উদ্যোগে সস্তায় ২টি গরু কিনে এক সমর্থকের মাধ্যমে ২ মাস ধরে লালন পালন করে এবং সমর্থক ও শ্রমিকদের সামর্থ্য অনুযায়ি সহযোগিতার মাধ্যমে আরও ৩টি গরু কিনে এবং যারা কোরবানি দিয়েছে এই আয়োজনে তাদের দেয়া কিছু কিছু মাংস দিয়ে দেড় হাজার দরিদ্র মানুষের ঘরে তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। পাশাপাশি ৪ শতাধিক হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী দরিদ্রদের জন্য রান্না করা মুরগির তেহারি সরবরাহের ব্যবস্থাও করেছিলাম।

যে কোন ধর্মীয় উৎসবের একটি সামাজিক দিকও থাকে। আমরা সেটাকেই বিবেচনায় রেখেছি সবসময়। অতীতের যে কোন কাজের কথা মনে করলে তার স্বাক্ষর পাবেন যে কেউ। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, এবারের ঈদ কে কেন্দ্র করে বাসদ এবং মনীষা চক্রবর্তীকে হেয় করার তৎপরতায় নেমেছেন অনেকে। সৌজন্য এবং শালীনতার সীমাও মানছেন না কেউ কেউ।

এবার ঈদে বাসদ বরিশাল জেলা শাখার পক্ষ থেকে হতদরিদ্র মানুষদের মাঝে এক কেজি পোলাওয়ের চাল এবং ১ কেজি মাংস বিতরণকে কেন্দ্র করে অনেকেই সমালোচনা করছেন। আমরা সব সময় সমালোচনাকে স্বাগত জানাই এমনকি তা আমাদের জন্য কষ্টকর হলেও। কারণ এর মাধ্যমেই আমাদের কাজের দুর্বলতা, ত্রূটি আমরা বুঝতে পারি, বন্ধু এবং প্রতিপক্ষের সীমানাটা ধরতে পারি, আমাদের কাজ এবং সমালোচকের মানসিকতার পার্থক্য চিহ্নিত করতে পারি। সামগ্রিকভাবে না দেখে কোন একটি বিষয়কে প্রধান করে যারা হেয় করতে চান আর যারা সঠিক পরামর্শ দেন তাদের পার্থক্যও বুঝতে চেষ্টা করি।
এবার করোনা মহামারীর মধ্যে এই আয়োজন করতে গিয়ে আমরা দেখেছি অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে কোরবানি দিচ্ছেন না, কিন্তু তাঁরা কোরবানির একটা অংশের টাকা দিয়ে আমাদের এই আয়োজনে শরীক হয়েছেন। আমাদের শ্রমজীবী কমরেডরাও অনেকে ২০০/৩০০ টাকা দিয়ে যার যার সাধ্যানুযায়ী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

যেখানে এই মহামারির সময়ে ঈদ নিয়ে কোন রাজনৈতিক দলেরই বিশেষ আয়োজন ছিলনা, সেখানে বাসদ এর এই গণমুখী আয়োজনের ব্যাপকতা অবশ্যই চোখে পড়ার মত। মানুষজন এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন । মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরেও অনেক হিন্দু ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই আয়োজনে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। বাসদের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাদের দেশে রাজনীতির এটা একটা দৈন্যতা যে আমরা অপরকে ভাল কাজ করতে দেখলে উৎসাহিত না করে নিরুৎসাহিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগে যাই। আমরা লক্ষ্য করছি, বাসদের এই আয়োজনের ভিডিওতে যারা কটুক্তি ও অশ্লীল মন্তব্য করছেন তাদের অধিকাংশের আইডি ফেক ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী মন্তব্যে পরিপূর্ণ। তাদের অভিযোগ – বাসদ এর সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী গরু কোরবানি দিয়েছেন ও মাংস বিতরণ করেছেন, এতে সনাতন ধর্মের অপমান হয়েছে।
আবার মুসলিম মৌলবাদী বা রাজনৈতিক পতিপক্ষরাও হিন্দু মানুষের কোরবানির মাংস হালাল না হারাম এই প্রশ্ন তুলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রথমত, এই আয়োজনটা ছিল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের দরিদ্র নেতাকর্মীদের এবং এই আয়োজনে সকল সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দই সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল সেই মানুষদের কাছে উৎসবের স্বাদ পৌঁছে দেয়া যাদের ঘরে ক্ষুধার আগুন মহামারির চেয়েও প্রবল। আগেও বলেছি, এই ঈদ আয়োজনে অন্য সম্প্রদায়ের দরিদ্র (হিন্দু ও খৃষ্টান) মানুষের ঘরে ঘরে রান্না করা মুরগীর তেহারি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আয়োজনের সার্বিক তত্বাবধান করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ। স্বাভাবিকভাবেই বাসদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন ও সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী পুরো বিষয়টা মনিটরিং করেছেন।
দলের সদস্য সচিব হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। কারণ তার কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম মানবতার ধর্ম, সবচেয়ে বড় ধর্ম শোষণ-বঞ্চনা থেকে মানুষের মুক্তি। ডাঃ মনীষা হরিজন কলোনিতে গিয়েও দুপুরের ভাত খান, খৃস্টানের ঘরেও ছুটে যান বড়দিনে, মুসলমানদের জন্যও তিনি নিবেদিতপ্রাণ। ধর্মীয় সংস্কার পালন করতে গিয়ে তিনি মানবসেবা থেকে বিচ্যুত হতে চান না কারণ তিনি জনগনের নেতা, কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতা নন।
জনগনের রাজনীতি করেন বলেই, আদর্শের সাথে আপোষ করেন না বলেই বরিশালে অশ্বিনী কুমার দত্তের নামে বরিশাল কলেজের নামকরণের দাবিতে বরিশালে বাসদ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার সত্ত্বেও লড়াই থেকে পিছু হটেনি।
আজও এই মানবতার কাজে যারা মানুষের কল্যাণ না দেখে ‘জাত গেল’ ধুয়া তুলছেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক- শুধু এই কামনাই আমরা করতে পারি। অনেক হিন্দু, মুসলিম ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের বাবা-মার মৃত্যুদিবসে মসজিদ-মন্দিরে কোন আয়োজন না করে সেই অর্থ এই মানবতার বাজারে দিয়েছেন গরীব মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য। এমনকি তারা বলেনওনি যে গরীব হিন্দু বা মুসলমানদের সহযোগিতা করো।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ বা সাম্প্রদায়িক না। তাই দরিদ্র মানুষের জন্য একটা ভাল কাজ করার পর শুধু ধর্মীয় বাতাবরনে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেটাকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

আরেকটি বিষয়- অনেকেই মন্তব্য করেছেন পূজা উপলক্ষে দরিদ্র-নিম্নবিত্ত হিন্দুদের জন্য মানবতার বাজার বসবে কিনা? আমাদের উত্তর- আমরা অবশ্যই ; এ ধরনের মহৎ কাজ করতে চাই। এমনকি আপনাদের সহযোগিতা পেলে উত্তরবঙ্গের বন্যাকবলীত মানুষদের পাশেও দাঁড়াতে চাই।
আপনারা জানেন যে আমরা আমাদের সমস্ত আয়োজন জনগনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সহায়তার ভিত্তিতেই করে থাকি। কোরবানিতে যেরকম অনেক ব্যক্তিই নিজে কোরবানি না দিয়ে আমাদের এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন, নিশ্চই যারা এই প্রশ্ন তুলেছেন যে পূজাতেও এমন আয়োজন হবে কি না, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই আয়োজন সফল করতে আর্থিক সহযোগিতাও করবেন। আমাদের কাছে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা আমাদের পেইজে দেয়া আছে।

বন্ধুগণ, অন্যদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। ধর্ম পালন আর ধর্মীয় কুসংস্কারের পার্থক্যটা বোঝার চেষ্টা করবেন। আপনারা সবাই দেখেছেন, সবদিক থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে একদল কুচক্রি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। মানবতার বাজার, ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সবকিছু বানচাল করার জন্য বন্ধ করে দেয়ার জন্য হামলা পর্যন্ত করেছে। কিন্তু সফল হয়নি। সফল হতে পারেনি কারণ এই গুটিকয়েক মানুষের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ সমর্থক, শুভানুধ্যায়ি, আমাদের কাজকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালবাসার সহযোগিতা করার মানুষ আছে আমাদের পাশে। আমরা দমে যাওয়ার মানুষ না। আমরা মানুষের জন্য সবকিছু দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার ব্রত নিয়েই রাজপথে নেমেছি। আজ শুধু লালনের একটা কথাই বারবার মনে পড়ছে, ‘ সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবই দেখি তা-না-না-না
জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা..’
সবাই ভাল থাকুন, সত্য-ন্যায় ও মানুষের পাশে থাকুন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares