September 18, 2020, 9:39 am

শিরোনাম
বাগেরহাট জেলার ২০২১ সালে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ছাড়াবে মোংলা বন্দর। মোঃ জহির উদ্দিন সাইক্লিং করে পিরোজপুর। পিরোজপুর পৌর যুবলীগের ৩নং ওয়ার্ড কার্যালয় পুড়িয়ে দিলেন সন্ত্রাসীরা। বিমানের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগেরহাটে গুরজিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় টাকা না দিলে মিলছে না প্রশংসাপত্র। ধর্ষণ শেষে হত্যার ৪৫ দিন পর সেই স্কুল ছাত্রী থানায় হাজির প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে বিয়ে অতঃপর যৌতুকের জন্য চাপ, যৌতুক না দেয়াতে তালাক। সাউথ আফ্রিকার,ডারবানে একটি মসজিদে আগুন মোংলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাথে একাত্নতা প্রকাশ উপজেলা চেয়ারম্যান হাওলাদার আবু তাহের। বাগেরহাট জেলার খাল থেকে ৪২ কেজি হরিনের মাংস, হরিন শিকারের ফাঁদ’সহ নৌকা জব্দ।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের বাস্তবচিত্র -তারেক আজিজ চৌধুরী।

দেশের মায়া মমতা ত্যাগ করে দেশের উন্নয়ন ও পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে হাজারো মাইল দূরে আসা বাংলাদেশিদের বাস্তবচিত্র নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা মিডলইস্টে অসংখ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী রয়েছে তাদের অধিকাংশ পরিবার মধ্যবিত্ত আবার অনেকে ব্যাংক ঋন বা আত্নীয় স্বজনদের কাজ থেকে নিয়ে ৫/৬লক্ষ টাকা ঋন নিয়ে ভিসা ক্রয় করে প্রবাস নামক সোনার হরিণের খুজে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে চলে আসে সূদুর প্রবাসে। অনেকের ধারণা প্রবাসে বাংলাদেশের মতো স্বাধীনতা আছে।প্রবাসে প্রবেশ করা সহজ কিন্তু প্রবাস থেকে দেশে যাওয়া কঠিন।মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতা,মাতা,ভাই,বোনের স্বপ্নের সাথে তরুণ রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীর স্বপ্ন এক সুতায় বেধে যখন জীবিকার সন্ধানে বের হয় তখন বাধা হয়ে দাড়াই কপিল/মালিক তখন তার সাথে মাসিক ২৫০/৩০০ রিয়াল চুক্তি করতে হয়। এবং বার্ষিক ভিসা নবায়ন করতে হয় ২/৩ লক্ষ টাকা।

এইসব সমাধান করতে একজন তরুণ রেমিট্যান্স যোদ্ধা কাজে যোগদান করতে যাবে তখন প্রবাসের মাটিতে অনেক ক্ষেত্রে লাঞ্চিত অপমানিত বা কষ্ট সইতে হয়। কারন আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।যে শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে রেমিট্যান্স,সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি,সেই প্রবাসীকর্মীদের খোঁজ রাখেন না কেউ। একটু সুখের আশায় পরিবার-পরিজন ফেলে সর্বস্ব ব্যয় করে তারা খেটে মরছেন বিদেশে। সুখের দেখা অনেকের মিলে,অনেকের মেলেনা।সাপ্লাইয়ার কোম্পানির কাজ করার পর ঠিক মতো বেতন দে না।টানা লকডাউনের মধ্যে পদে পদে শোষিত হয়ে দিশেহারা অনেক প্রবাসী। শ্রমিকদের প্রকৃত পাওনা থেকে কমিশনের নামে টাকা চলে যায় দালালদের পকেটে। এভাবে চলে বছরের পর বছর।এসব মজুরি-খোয়ানো অসহায় মানুষগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো অভিযোগ করেন না। যেহেতু তাদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে না। আর সমাজের মুখোশধারী এই ছদ্মবেশিদের সঙ্গে পেরে উঠবেন না। সমাজের অতি সাধারণ আর অবস্থার ফেরে সবচেয়ে অসহায় আর বিপন্ন এই মানুষগুলো বিচার দিয়ে রেখেছেন উপরওয়ালার কাছে। তিনি ছাড়া বিদেশে তাদের আর কেই-বা আছে! অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা ক্রীতদাসের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানিতে।

দালালরা কোম্পানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশি বেতনে চুক্তি করে শ্রমিকদের কম বেতন ধরিয়ে দিয়ে বাকিটা আত্মসাৎ করে;আবার সেই কম বেতন থেকেও নানা ছুতায় টাকা কেটে নেয়া হয়। প্রবাসে বিভিন্ন দপ্তরে বাংলাদেশীদের মধ্যে যারা একটু ভালো অবস্থানে আছে যেমন ম্যানেজার, ফোরম্যান,কন্ট্রাক্টর বা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কাজ করে তাদের অধিকাংশ মানুষ তারা নিজেদের কে ভিন্ন জগতের মনে করে।তাদের অধীনে যারা কাজ করে প্রবাসী বাংলাদেশী তাদের কে কোন সুযোগ সুবিধা তো দেয়ই না বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে এমন আচরণ করে থাকে তা লেখার ভাষা নাই। তবুও পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে হাজারো কষ্টের মধ্য কাজ করে যাচ্ছে হাজারো রেমিট্যান্স যোদ্ধা।তাদের এমন আচরন দেখে নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হয়।কারন আমরা সবাই এক দেশের সন্তান। ভাবতে কষ্ট হয় তারাও বাংলাদেশী পরিচয় বহন করে। মধ্যবিত্ত প্রবাসী যখন সারা মাস পরিশ্রম করে মাস শেষে নির্ধারিত বেতন না পাই তখন অসুস্থ পিতা মাতার ঔষধ কিনতে পারেনা।ভাই বোনের লেখা পড়ার খরচ দিতে পারেনা।পারেনা ব্যাংক ঋন পরিশোধ। তখন একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মানসিক চাপে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হতে হয়।পরিবারের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীর মৃত্যু বরণ নিয়ে যদি জরিপ করা হয় তাহলে শতকরা ৯৯% মৃত্যু উপরোক্ত কারণ হিসাবে উঠে আসবে।এর অধিকাংশ দায়ভার কন্ট্রাক্টর/স্পলাইয়ার।

প্রবাসে যারা লেবার সেক্টরে কাজ করে তাদের কে গাধার মতো পরিশ্রম করেও সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে না। ছোট একটি গল্পের উদাহরণ দিচ্ছি কোন এক দেশে এক মালিকের ছিল একটি গাধা ও ছাগল। মালিক ছাগল কে খুব আদর যত্ন করে কিন্তু গাধার পিঠে তার পণ্য পরিবহন করে থাকে প্রতিদিন এবং দিনশেষে গাধাকে মারধর করে। একদিন ছাগল গাধা কে প্রশ্ন করে ভাই গাধা তুমি মালিকের এত কাজ করে থাকো তারপরেও মালিক তোমার সাথে খারাপ আচরণ করে আর আমি তো মালিকের কিছু কাজ করিনা তবুও আমাকে খুব আদর যত্ন করে। গাধা ছাগলের প্রশ্নের উত্তরে বলে ভাই ছাগল তোমার এত আদর যত্ন কেন জান ঈদের চাঁদ উঠেছে তাই।প্রবাসী যারা লেবার সাইনবোর্ড নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে তারা ঠিক গাধার মতো অবস্থা আর উচ্চপর্যায়ে যারা তারা ছাগলের মতো তাদের মালিক কে প্রতিদিন তেল মালিশ করে তাদের অধিনে কর্মরত লেবার প্রবাসীদের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বন্জিত করে। মনুষ্য সমাজে বিচরণ করে অসংখ্য প্রানী। জীব জীবকে ভক্ষন করে নিজেকে টিকিয়ে রাখে বাঁচিয়ে রাখে। আচরণ আর স্বভাবগত দিক থেকে আমাদের মনুষ্য জাতের চরিত্রটা অনেক ক্ষেত্রে হিংস্র জন্তু জানোয়ার অথবা কীট পতংগকেও হার মানায়৷ মনুষত্য বলতে একটা শব্দ আছে ইহাই ভুলে যায় এই মহা রহস্যময় সৃষ্টি মানুষ নামক প্রানী।একজনের দিকে একটা আংগুল উচিয়ে হুমকি দেয়ার সময় লক্ষ্য করেনা তিনটি আংগুল তার নিজের দিকেই তাক করা থাকে। সেই উচ্চপর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বলতে চাই ভুলে যাবেন না আপনিও বাংলাদেশীদের একজন। আপনার অধিনে কাজ করা মানে আপনার গোলাম নই।আপনার সহকর্মী মনে করুন। বিশ্বনবী হয়রত মোহাম্মদ(সঃ) এর বলেছেন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বে মজুরি পরিশোধ করার। কিন্তু আপনাদের চিত্র ভিন্ন।তাই মানবিক হউন। লেখক-তরুণ সংগঠক ও সমাজকর্মী,সৌদি আরব।

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares