August 9, 2020, 12:19 am

শিরোনাম
জর্ডানে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শিশু কিশোরদের দাবা খেলা প্রতিযোগিতা কক্সবাজারের এসপিকেও গ্রেপ্তারের দাবি আওয়ামী লীগ নেত্রী কাবেরী’র ! সিনহা নিহতের পর গ্রেপ্তার সিফাতের মুক্তির দাবিতে বরগুনায় আয়োজিত মানববন্ধনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর একই পরিবারের ০৩ জনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউতে সানাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চিরায়ত বাংলার প্রতিচ্ছবি এবং বাঙ্গালির প্রেরণার উৎস: হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম আফ্রিকান সন্ত্রাসীর হাতে বাংলাদেশী খুন কোম্পানীগঞ্জে খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরি! লেবাননে সৌদি আরবের ত্রানবাহী বিমান পিরোজপুরে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করলেন ইউএনও

সিলেটে প্রবাসীর ভূমি আত্মসাতের চেষ্টা !

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বৃদ্ধা ও তার মেয়ের স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের অপচেষ্টার অভিযোগে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ক্রিমিনভ ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

মোগলাবাজার ধানাধীন সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের গোটাটিকরের বাসিন্দা, মৃত এখলাছ মিয়ার স্ত্রী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী দৌলত বেগমের দায়ের সিআর মামলা নং- ২২৭/১৫ এর প্রেক্ষিতে সিলেটের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে গত ৮ অক্টোবর এই প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডি ইন্টপেক্টর মুহিদুর রহমান খান। বিচারক সাইফুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে এই মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী গোটাটিকর গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদ মাহমুদের পুত্র  মাহসুমুল হক (৩৭), আজিজুল হক ( ৩৯), মাহবুবুল হক (৩০) ও মুজিবুল হক (২৮), একই গ্রামের আব্দুল মুতলিব নানু মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদ (৩৬)-এই ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন।

মামলার আরজি ও আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে জানা যায়, এই জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মাহছুমুল হক রুহেল (৩৫) নামের এক যুবক। দৌলত বেগমের দেশে অনুপস্থিতির সুযোগে সে দৌলত ও তার মেয়ের স্বাক্ষর জাল করে সম্পাদন করে নিয়েছে একটি আমমোক্তারনামা। ২০০৯ সালে এই অপকর্ম হলেও জানতেন না দৌলত বেগম বা তার পরিবার। ২০১৪ সালে হঠাৎ করেই তিনি জানতে পারেন, তার মালিকানাধীন কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ শতক ভূমি নিজের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছে ঐ রুহেল। কৌশলে জাল আমমোক্তারনামা করে দৌলত বেগমের সমুদয় সম্পদ আত্মসাতের পাঁয়তারা চালাচ্ছে মাহছুমুল হক রুহেলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র।

মামলার বাদী দৌলত বেগম জানান, আকষ্মিকভাবে দৌলত বেগমের সম্পত্তির তত্বাবধায়ক আকসার মিয়া জানতে পারেন গোটাটিকর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুস শহীদ মাহমুদের পুত্র মাহছুমুল হক রুহেল একটি সাফ কবালা দলিল করে দৌলত বেগমের সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। দৌলত বেগম সে সময় লন্ডনে। তত্বাবধায়ক আকসার মিয়া খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০০৯ সালে সম্পাদিত একটি জাল আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব এটর্নি) বলে মাহছুমুল হক রুহেল নিজেকে দৌলত বেগমের আমমোক্তার দাবী করে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি বিক্রি করেছে। আকসার মিয়া খোঁজ নিয়ে আরো জানতে পারেন, উক্ত আমমোক্তারনামা বলে মাহছুমুল হক রুহেল দৌলত বেগমের মালিকানাধীন কোটি টাকা মূল্যে ৭৫ শতক ভ‚মি নিজের নামে নামজারিও করিয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে আকসার মিয়া ০৯ অক্টোবর ২০১৪ সালে সম্পাদিত ঐ দলিল নং-৩৫৩৭/২০১৪ এর নকল সংগ্রহ করে দেখতে পান রুহেল নিজেকে দৌলত বেগমের আমমোক্তার দাবী করে ঐ জমি ৭৫ শতক জমি বিক্রি করেছে তার (রুহেলের) ভাই আজিজুল হক, মাহবুবুল হক ও মুজিবুল হকের কাছে। এরপর সেই জমি আবার দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে করিয়ে নিয়েছে রুহেল। বিষয়টি জানতে পেরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দৌলত বেগমের পক্ষে তার মেয়ে ফাতিমা বেগম  লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিতভাবে জালিয়াতির বিষয়টি অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারী ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী এক পত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সিলেটের ডিআইজি অফিসের প্রবাসী অভিযোগ সেলে চিঠি পাঠান। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঐ চিঠির প্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব ইন্সপেক্টর মো. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে ২৫ আগষ্ট ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রদান করেন।

ঐ প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রমাণ পান যে, উক্ত মাহছুমুল হক জালিয়াতির মাধ্যমে ভ‚য়া আমমোক্তার সৃজন করে দৌলত বেগমের মালিকানাধীন ভ‚মি তার ভাইদের কাছে বিক্রি করেছেন। এর মাত্র ৬ মাস পর সেই জমি আবার দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে স্থানান্তর করে নিজে ঐ জমির মালিক সেজেছেন। শুধু তাই নয়, জাল আমমোক্তারনামা বলে কৌশলে নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করে ঐ জমি তার নিজের নামে নামজারিও করিয়ে নিয়েছেন। কোটি টাকা মূল্যের ঐ সম্পত্তি জালিয়াতির ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের সুপারিশও করা হয় ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে।

অভিযোগে প্রকাশ, জালিয়াত রুহেল চক্র ৩৫৩৭/২০১৪ নং যে দলিলটি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রদর্শন করে সেখানে জমির মূল্য বাবত পরিশোধকৃত টাকার পরিমাণ দেখিয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সে একই নাম্বারের আরেকটি দলিল দিয়ে জমি নামজারি করিয়েছে, যে দলিলে পরিশোধকৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেছে ১০ লাখ টাকা। এছাড়া, ৭৫ লাখ টাকার দলিলে সে সব জায়গার শ্রেণী রেকর্ড মোতাবেক উল্লেখ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকার দলিলে সব জমি বোরো শ্রেণীর উল্লেখ করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা ভ‚মি অফিস ও রেজিস্ট্রারী অফিসের সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সাথে জালিয়াত রুহেলের যোগসাজস রয়েছে।

জালিয়াতির ঘটনায় রুহেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে একটি মামলা, আমমোক্তারনামা জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা (নং-২২৭/২০১৫) এবং জমির স্বত্ব নিষ্কন্টক ও নির্মল করার স্বার্থে একটি মামলা (নং-৭৮/২০১৬) দায়ের করে দৌলত বেগম।

উক্ত ২২৭/২০১৫ নং মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। দৌলত বেগম পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে গিয়ে তিনি ও তার মেয়ে ফাতিমা বেগমের পক্ষ থেকে তাদের আত্মীয় আব্দুল কাইয়ুমকে এই মামলা পরিচালনার জন্য আমমোক্তার নিযুক্ত করেন। দীর্ঘ ৩ বছর তদন্তের পর সিআইডি ইন্সপেক্টর মুহিদুর রহমান খান গত ৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  তদন্তকালে বিশেষজ্ঞের মতামত, জব্ধকৃত আলামত পরীক্ষাসহ সার্বিক তদন্তে ৫ আসামীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণ পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জালিয়াতিকারী চক্র দৌলত বেগম ও তার মেয়ে ফাতিমা বেগমের স্বাক্ষর জাল করে দলিল সম্পাদন করেছে। দলিলের ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারী ফি আত্মসাত করেছে। দৌলত বেগমের নামে জাল আমমোক্তারনামা তৈরী করেছে,। আমমোক্তারনামায় বৃটিশ হাই কমিশন ও মন্ত্রণালয়ের জাল সীল প্রদান করেছে, এমনকি দলিল সম্পাদনকালে সরকারী কোষাগারে টাকা জমাদানের চালানের কপিও জাল করেছে। ফলে, আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪১৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ পত্র প্রদান করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলার বাদী দৌলত বেগমের আমমোক্তার আব্দুল কাইয়ুম জানান, অভিযুক্ত মাহছুমুল হক উরফে রুহেলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে আরো একটি মামলা (জালালাবাদ সিআর- ৯০/২০১৮) তদন্তাধীন আছে এবং ৫০৬ ধারায় দায়ের করা আরো একটি নন জিআর (জালালবাদ থানার নন জিআর মামলা নং-১৪/২০১৮) বিচারাধীন আছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares