August 8, 2020, 11:52 pm

শিরোনাম
জর্ডানে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শিশু কিশোরদের দাবা খেলা প্রতিযোগিতা কক্সবাজারের এসপিকেও গ্রেপ্তারের দাবি আওয়ামী লীগ নেত্রী কাবেরী’র ! সিনহা নিহতের পর গ্রেপ্তার সিফাতের মুক্তির দাবিতে বরগুনায় আয়োজিত মানববন্ধনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর একই পরিবারের ০৩ জনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউতে সানাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চিরায়ত বাংলার প্রতিচ্ছবি এবং বাঙ্গালির প্রেরণার উৎস: হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম আফ্রিকান সন্ত্রাসীর হাতে বাংলাদেশী খুন কোম্পানীগঞ্জে খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরি! লেবাননে সৌদি আরবের ত্রানবাহী বিমান পিরোজপুরে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করলেন ইউএনও

বরগুনায় স্কুল নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি, ভেঙে পড়ল টয়লেট !

ইমাম হাসান শরীফ : বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্মাণের ৩ বছরের মাথায় ওয়াস ব্লক ভেঙ্গে পড়েছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয়রা রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহ্বান করে। ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরজামাল।
ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালিন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে আতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন।
২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায় ঠিকাদার। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেননি এমন দাবি প্রধান শিক্ষকের। ওয়াস ব্লক নির্মাণের ৩ বছরের মাথায় লেন্টিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে।
ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চলতি বছর ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজমিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজ শুরু করতেই  মুহুর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এরপরই  লেন্টিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি। তাৎক্ষণিক রাজমিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন।
প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান। রোববার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয়ের ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়াস ব্লকের ভেতরে লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়া নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। লেন্টিনের মধ্যে রডের পরিবর্তে বাশ কঞ্চি দেয়া আছে।
স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খাঁন  বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে। ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের দফতরি মো. শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল এসে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভেঙ্গে পড়া লেন্টিন সরিয়ে ফেলেছে। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শুনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙ্গা লেন্টিনের দুটি টুকরো লুকিয়ে রেখেছি।
রাজমিস্ত্রি মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করা মাত্রই ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। পরে দেখতে পাই লেন্টিনের মধ্যে বাঁশের কঞ্চি। ধারণা করা হচ্ছে সমুদয় ওয়াস ব্লকে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল ওয়াস ব্লকের কাজের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন। ওই সময় আমি নিষেধ করলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমি তার কাজের কোন প্রত্যায়ন দেইনি। এখন দেখছি রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved, প্রবাসী ক্লাব ফাউন্ডেশন- The Expat Club Foundation. (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি)।  
Design & Developed By NCB IT
Shares